ভালোবাসার পথিক
ঝুম বৃষ্টি পড়ছে সকাল থেকে। কলকাতার রাস্তা যেন ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। পাখিরা আশ্রয় খুঁজছে গাছের পাতায়, আর মানুষ ব্যস্ত তাদের ছাতা আর বৃষ্টির জলে ভেজা জামাকাপড় নিয়ে। ঠিক এমন এক দিনে, কলেজ থেকে ফেরার পথে রুদ্রর চোখে পড়ল অপূর্বাকে।
অপূর্বা রুদ্রর পাশের বাড়ির মেয়ে। কিন্তু আজ যেন অন্যরকম লাগছে তাকে। হলুদ রঙের শাড়ি, ভেজা চুল, আর সেই মিষ্টি হাসি। রুদ্রর মন যেন কেঁপে উঠল। প্রথমবারের মতো সে অনুভব করল, তার হৃদয় যেন কাউকে ডাকছে।
অপূর্বা আর রুদ্রর আলাপ অবশ্য অনেকদিনের। ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হওয়া, একসঙ্গে পড়াশোনা, আর পাড়ার পিকনিকে গিয়ে গল্প করার মুহূর্তগুলো। কিন্তু কখনো সেই সম্পর্কটা বন্ধুত্বের বাইরে যায়নি। রুদ্র ভাবত, অপূর্বা শুধু তার বন্ধু। কিন্তু আজ? আজ কি তবে সেই বন্ধুত্ব নতুন রূপ নিচ্ছে?
রুদ্রর ভিতরে এক অদ্ভুত অস্থিরতা কাজ করছে। বাড়ি ফিরে পড়াশোনার টেবিলে বসলেও মনটা পড়ে থাকে অপূর্বার কাছে। কী করবে সে? বলবে? নাকি বলবে না? সাহস করে ঠিক করল, পরের দিন অপূর্বাকে নিজের মনের কথা জানাবেই।
অপেক্ষার দিন
পরের দিন সকাল। রুদ্র সারা রাত জেগে কাটিয়েছে। কি বলবে, কীভাবে বলবে—সবকিছু ভেবে রেখেছে। কিন্তু অপূর্বার সামনে এসে যেন সবকিছু ভুলে যায়।
"অপু, একটু কথা বলব?" রুদ্র জড়সড় হয়ে বলল।
অপূর্বা চোখ তুলে তাকাল। "হ্যাঁ, বলো।" তার ঠোঁটে সেই চিরচেনা মিষ্টি হাসি।
"আমার মনে হয়, মানে আমি তোমাকে... তোমার জন্য... মানে, আমি তোমাকে ভালোবাসি।" কথাগুলো যেন মুখ থেকে বেরিয়ে আসতেই চায় না।
অপূর্বা প্রথমে চুপ করে রইল। তারপর একটু হেসে বলল, "তোমার সাহস তো কম নয়, রুদ্র। কিন্তু এভাবে হঠাৎ? তুমি কি নিশ্চিত?"
রুদ্র জানত না কী বলবে। সে শুধু মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল।
অপূর্বা বলল, "ঠিক আছে। আমিও তোমাকে একটা উত্তর দেব। তবে সেটা আজ না। সময় দাও আমাকে।"
নতুন শুরু
এরপর কয়েকদিন কেটে গেল। অপূর্বা যেন একটু দূরে সরে গিয়েছিল রুদ্রর কাছ থেকে। তার আচরণে একটা অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছিল। রুদ্রর ভেতর তখন এক অদ্ভুত টানাপোড়েন।
কিন্তু একদিন, এক বিকেলে, যখন সূর্যের আলো লালচে হয়ে আকাশ রাঙাচ্ছে, অপূর্বা রুদ্রকে ডেকে বলল, "চলো, নদীর ধারে হাঁটতে যাই।"
নদীর ধারে গিয়ে অপূর্বা ধীরে ধীরে বলল, "রুদ্র, তোমার প্রস্তাবটা ভেবে দেখেছি। তুমি আমার খুব ভালো বন্ধু, আর আমি চাই আমাদের এই সম্পর্কটা আরও গভীর হোক। কিন্তু তোমাকে একটা শর্ত দিতে হবে।"
"কী শর্ত?" রুদ্র প্রশ্ন করল।
"তুমি যদি সত্যিকারের ভালোবাসো, তাহলে সেটা প্রমাণ করতে হবে। ভালোবাসা শুধু কথা নয়, কাজেও দেখাতে হবে।"
রুদ্র সেদিন প্রতিজ্ঞা করল, সে তার ভালোবাসা প্রমাণ করবেই।
চ্যালেঞ্জের পথে
শর্ত পূরণের জন্য রুদ্র আর অপূর্বা একসঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ল। কখনো পথশিশুদের পড়ানো, কখনো বয়স্কদের জন্য বৃদ্ধাশ্রমে সময় দেওয়া। এভাবে তারা শুধু একে অপরের প্রতি ভালোবাসাই নয়, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার মানেও বুঝতে শিখল।
এরই মধ্যে রুদ্রর একটা বড় চাকরি হলো। অপূর্বাও তার পড়াশোনা শেষ করে একটি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করল। তাদের জীবনের গতি বদলাল, কিন্তু সম্পর্ক আরও গভীর হলো।
ভালোবাসার পরিণতি
একদিন রুদ্র অপূর্বাকে বলল, "অপু, এবার তাহলে আমাদের গল্পটা একটা নতুন নাম দিই? আমরা কি বাকি জীবনটা একসঙ্গে কাটাব?"
অপূর্বা হেসে বলল, "তোমার ভালোবাসা আমাকে প্রতিদিন নতুন করে দেখিয়েছে, রুদ্র। আমার উত্তর হলো—হ্যাঁ।"
তাদের বিয়ে হলো এক সরল কিন্তু সুন্দর অনুষ্ঠানে। ভালোবাসার এই পথিকেরা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে একসঙ্গে উপভোগ করার প্রতিজ্ঞা করল। তাদের গল্প শুধু এক জোড়া মানুষের নয়, এটি ভালোবাসা, সম্মান আর দায়িত্ববোধের প্রতীক হয়ে রইল।
উপসংহার
জীবন কখনো সরল পথে চলে না। তবে ভালোবাসা যদি সত্য হয়, তাহলে প্রতিটি বাঁধা অতিক্রম করা সম্ভব। রুদ্র আর অপূর্বার গল্প এই কথাই বলে—ভালোবাসা মানে শুধু কথা নয়, এটি কাজ, ধৈর্য আর একে অপরের প্রতি অবিচল বিশ্বাসের নাম।

Supper
ReplyDeleteWrite more
ReplyDeleteWrite everyday please
ReplyDeleteWrite more and more
ReplyDelete