Subscribe Us

Wednesday, February 5, 2025

ভয়ঙ্কর পরিণতি

 


রাত তখন ১২টা ছুঁই ছুঁই। বিশাল এক পুরনো বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে আরিফ, রানা, তুষার, আর মেঘলা। চার বন্ধু ঠিক করেছে, আজ রাতটা এখানেই কাটাবে। বাড়িটা নিয়ে গ্রামে বহু গুজব আছেলোকজন বলে, এটা অভিশপ্ত। 

রাতের অন্ধকারে ভেতর থেকে কেমন যেন কান্নার আওয়াজ আসে, কেউ কেউ আবার বলেছে, দেয়ালের ছায়া নড়াচড়া করে! কিন্তু ওরা এসব বিশ্বাস করে না।

গ্রামের প্রবীণরা অনেক সাবধান করেছিলেন
"ওই বাড়ির ভেতরে কেউ গেলে আর ফিরে আসে না!"

কিন্তু শহুরে চার বন্ধুর এসব গল্পগুজবে বিশ্বাস নেই। ওরা ভূতের অস্তিত্বকে হাস্যকর মনে করে।

"চলো, এক রাত থেকে দেখি, ভূত বলে কিছু আছে কি না!"রানা কটাক্ষের হাসি হেসে বলল।

গেটের সামনে এসে দরজায় হাত রাখতেই কেমন যেন শীতল একটা অনুভূতি হলো। শরীর দিয়ে হালকা কাঁপুনি ছড়িয়ে গেল। তবে তুষার হেসে বলল, "ধুর! এগুলো সব মানসিক ব্যাপার। চলো, ঢুকি!"

ভূতের বাড়ির ভেতরে

বাড়ির দরজাটা বিকট শব্দে খুলে গেল। চারদিকে পচা কাঠের গন্ধ, শ্যাওলা পড়া দেয়াল, আর ছাদের কোথাও কোথাও ফাঁকা হয়ে গেছে। বাতাস নেই, কিন্তু কেমন যেন একটা অদৃশ্য শীতলতার অনুভূতি চারপাশে ঘিরে আছে।

মেঘলা চাপা গলায় বলল, "ভালো লাগছে না একদম। আমাদের ফিরে যাওয়া উচিত।"

তুষার হেসে উঠল"ভয় পেয়েছো? ভূত বলে কিছু নেই!"

ওরা এগিয়ে গেল ভিতরের দিকে। হঠাৎ করেই একটা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে গেল সবাই। দরজাটা নিজে থেকেই একটু একটু করে খুলে গেল। কেউই দরজায় হাত দেয়নি!

তুষার কেমন যেন অসাড় হয়ে গেল মুহূর্তের মধ্যে।

"আমরা কি ভিতরে যাব?"রানা ফিসফিস করে বলল।

"এসেছি যখন, তবে ফিরে যাব না,"—আরিফ দৃঢ় কণ্ঠে বলল।

প্রথম ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

ঘরটার ভেতরে প্রবেশ করতেই সবাই থমকে গেল। চারপাশের দেয়ালে কেমন যেন নখের আঁচড়ের দাগ! একটা পুরনো আয়নার সামনে এসে দাঁড়াতেই সবাই চমকে উঠল।

আয়নার মধ্যে তাদের প্রতিচ্ছবি নেই!

মেঘলা আতঙ্কে পেছনে সরে গেল, কাঁপা গলায় বলল, "এটা কীভাবে সম্ভব?"

এমন সময় একটা ঠাণ্ডা বাতাস বইতে শুরু করল। বাতাসের সাথে কেমন যেন ফিসফিস করা আওয়াজ ভেসে এলো

"তোমরা চলে যাও... নইলে তোমাদেরও এখানে থেকে যেতে হবে..."

তুষার হেসে উঠল, "বাজে কথা! এসব আমাদের ভয় দেখানোর জন্য কেউ করছে।"

সে কিছু বোঝার আগেই হঠাৎ করেই একটা অদৃশ্য শক্তি ওকে দেয়ালে ছুঁড়ে ফেলল!

তুষার চিৎকার করে উঠল, "উফফ! কে আমাকে ধাক্কা দিলো?"

কিন্তু কেউই দেখতে পেল না, ওকে ধাক্কা দিলো কে।

ভয়াল সিঁড়ি রহস্যময় কণ্ঠ

চার বন্ধু দৌড়ে নিচের ঘর থেকে বের হয়ে সোজা উপরের দিকে ওঠার জন্য সিঁড়ির দিকে গেল। কিন্তু সিঁড়ির মাঝখানে উঠে হঠাৎ করেই শুনতে পেল পেছন থেকে কারও পায়ের আওয়াজ!

কিন্তু ওরা তো জানে, এখানে আর কেউ নেই!

তুষার বলল, "চলো ছাদে গিয়ে দেখি, কী হচ্ছে!"

ওরা দৌড়ে ছাদে উঠে গেল। কিন্তু ছাদে পৌঁছানোর পরই হঠাৎ সবকিছু নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

চারদিক অন্ধকার, বাতাস থমথমে।

তখনই পেছন থেকে একটা গলা শুনতে পেল

"এখানে তোমরা কেন? আমার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করেছো!"

ওরা পেছনে তাকাতেই দেখল, এক লম্বা কালো ছায়া দাঁড়িয়ে আছে। কোনো মুখ নেই, কেবল লাল জ্বলজ্বলে চোখ!

ভয়ঙ্কর পরিণতি

ওরা চিৎকার করতে গিয়ে দেখল, গলা দিয়ে কোনো শব্দই বের হচ্ছে না! যেন কেউ ওদের কণ্ঠ চেপে ধরেছে।

কালো ছায়াটা এগিয়ে এল, তারপর তুষারের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। মুহূর্তের মধ্যেই তুষার বাতাসের মতো মিলিয়ে গেল!

বাকি তিনজন আতঙ্কে ছাদ থেকে নেমে দৌড় দিল নিচের দিকে। কিন্তু দরজার কাছে আসতেই দেখতে পেল দরজাটা নিজেই বন্ধ হয়ে গেছে।

মেঘলা কাঁদতে শুরু করল, "আমরা আর বের হতে পারব না, আমরা এখানে আটকে গেছি!"

হঠাৎ করেই রানার চোখ উল্টে যেতে লাগল। সে অদ্ভুত গলায় বলতে লাগল,

"ওরা এসেছে... এখন তোমরা কেউ আর বাঁচবে না..."

তারপরই রানার দেহটা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

আরিফ আর মেঘলা দরজা ধাক্কাতে লাগল, কিন্তু দরজা খুলছিল না।

ভূতের আসল পরিচয়

তখনই আবার সেই ভয়ংকর গলাটা শোনা গেল

"এই বাড়িটা আমার! এখানে যারা আসে, তাদের কখনো যেতে দিই না!"

আস্তে আস্তে সামনে এল এক বিবর্ণ মুখের মহিলা। তার চোখ দুটো গর্তের মতো ফাঁকা, সারা মুখে পোড়া দাগ।

মেঘলা কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠল, "তুমি কে?"

মহিলার গলাটা কেঁপে উঠল, তারপর কাঁদো কাঁদো গলায় বলল

"আমি এই বাড়ির শেষ বাসিন্দা ছিলাম। সবাই আমাকে পুড়িয়ে মেরেছিল। এখন আমি প্রতিশোধ নিই!"

বলে, এক বিকট চিৎকার করে উঠল মহিলা। চারপাশে সবকিছু কাঁপতে লাগল।

শেষ পরিণতি

মেঘলা আর আরিফের চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে গেল।

পরের দিন সকালে গ্রামের লোকজন এসে দেখে, বাড়িটার দরজা অর্ধেক খোলা। ভিতরে কারও কোনো চিহ্ন নেই!

চার বন্ধু যেন বাতাসের মতো উধাও হয়ে গেছে!

কিন্তু সেই আয়নাটা এখনও সেখানে আছে। আর আয়নার মধ্যে আজও দেখা যায়চার বন্ধুর প্রতিচ্ছবি, কিন্তু তারা বাস্তবে আর নেই...

শেষ কথা

এরপর থেকে কেউ আর ওই বাড়ির সামনে যায় না। রাত হলে বাড়ির ভেতর থেকে এখনো শোনা যায় মেঘলা, আরিফ, রানা আর তুষারের কান্নার শব্দ...

কারণ, তারা এখনো ওই বাড়ির বন্দী... চিরতরে!


                       ---------------<   সমাপ্ত  > ------------

2 comments:

Powered by Blogger.

Search This Blog

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's.

Facebook