Subscribe Us

Friday, October 31, 2025

তোমার চোখে রূপা

রোদে ঝলমলে দুপুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনের কফি কর্নারটা তখনও কোলাহলে ভরা। বইয়ের পাতার শব্দ, হাসির গুঞ্জন, কফির গন্ধ—সব মিলিয়ে যেন অন্য এক পৃথিবী।
সেই ভিড়ের মাঝেই বসে আছে রূপা—চোখে কালো কাজল, মুখে হালকা লিপস্টিক, পরনে কালো শাড়ি। হাতে ধরা ঠান্ডা কফির কাপ, কিন্তু চোখ যেন দূর কোথাও।

তার চারপাশে বন্ধুরা হাসছে, কথা বলছে, কিন্তু রূপা যেন অন্য কোনো জগতে হারিয়ে গেছে।
ঠিক তখনই পাশের টেবিলে বসা একজন ছেলের চোখে চোখ পড়ল তার।

ছেলেটির নাম আরিন
শান্ত-স্বভাবের, তবে চোখে গভীর এক স্বপ্নের ছায়া। সে তৃতীয় বর্ষের ছাত্র, সাহিত্য ভালোবাসে, সুরে-ছন্দে ডুবে থাকতে ভালো লাগে।
আরিনের চোখে কিছু একটা ছিল—যা রূপাকে এক মুহূর্তের জন্য থামিয়ে দিল।

তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি, শুধু এক পলকের চাহনি—যেটা রূপার মনে গেঁথে রইল দিনের পর দিন।

প্রথম দেখা, প্রথম অনুভব

পরের সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রূপা গাইবে তার প্রিয় গান—

“চল রে চল মনের পাখি…”

গান শেষ হওয়ার পর সবাই করতালি দিচ্ছে। আরিন সামনের সারিতেই ছিল। তার চোখে বিস্ময়, মুগ্ধতা, আর একরাশ শ্রদ্ধা।

পরদিন ক্লাস শেষে সে সাহস করে এগিয়ে গেল রূপার দিকে।
— “তুমি খুব সুন্দর গাও। গানটার মধ্যে একটা অন্যরকম মায়া আছে।”

রূপা হেসে বলল,
— “মায়া না, হয়তো আমার জীবনের কিছু গল্প ওই সুরের মধ্যে লুকিয়ে আছে।”

সেদিনই প্রথম তাদের মধ্যে কথা হয়।
ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব, তারপর একসাথে ক্লাসের পর হাঁটাহাঁটি, কফি খাওয়া, বইয়ের আলাপ, সুরের তর্ক—সব মিলিয়ে সম্পর্কটা এক অদ্ভুত জায়গায় পৌঁছাতে লাগল।

ধীরে ধীরে প্রেম

এক বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে বসে দুজনে সূর্যাস্ত দেখছিল।
আকাশটা কমলা রঙে রাঙা, রূপার শাড়ির প্রান্তে বাতাস খেলা করছে।

আরিন বলল,
— “তুমি জানো, তোমার নামটা খুব মানায় তোমার সঙ্গে। রূপা—মানে ঝলমলে আলো, কিন্তু মাটির মতো শান্ত।”

রূপা মৃদু হেসে বলল,
— “তুমি এমনভাবে বললে মনে হচ্ছে, আমার নামের মধ্যেই কবিতা লিখে ফেলবে।”

আরিনও হেসে বলল,
— “হয়তো লিখব। তুমি যদি আমার অনুপ্রেরণা হও।”

তারপর একটু চুপ করে রূপা বলল,
— “জীবনটা আমার খুব সহজ না। বাবা নেই, মা চাকরি করেন, সংসার সামলাতে হয়। আমি গান ভালোবাসি, কিন্তু অনেকে বলে এটা মেয়েদের কাজ না।”

আরিন বলল,
— “যতজন বলে না, আমি ততবার বলব—হ্যাঁ, এটাই তোমার কাজ। গান মানে আত্মা, আর তোমার আত্মা তো সুরে বাঁধা।”

সেদিন থেকেই তাদের সম্পর্কের ভিতটা আরও গভীর হলো।

লড়াইয়ের দিন

কয়েক মাস পর রূপার মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন।
চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন অনেক টাকা।
রূপা একদিকে পড়াশোনা, অন্যদিকে চিকিৎসার খরচ—সব একা একা সামলাতে লাগল।

আরিন পাশে থেকেও কিছুটা দূরে ছিল, কারণ রূপা চায়নি সে যেন নিজের কষ্ট ভাগ করে নেয়।

রাত জেগে টিউশন, ছোট ছোট গানের প্রোগ্রাম—সবকিছু করতে লাগল সে, শুধু মাকে সুস্থ করার জন্য।

আরিন প্রতিদিন শুধু একটা মেসেজ দিত—

“তুমি পারবে, রূপা। আমি জানি।”

এই পাঁচটা শব্দ রূপার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাহস হয়ে উঠেছিল।

মঞ্চের আলো

একদিন বড় এক সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিল রূপা।
সবাই বলেছিল, “এই মেয়ে কিছু করবে না।”
কিন্তু রূপা জানত, এই মঞ্চেই হয়তো জীবনের নতুন শুরু লুকিয়ে আছে।

গান শুরু হলো—

“তোমার চোখে আমি হারিয়ে যাই…”

তার কণ্ঠে এমন গভীরতা ছিল, যেন প্রতিটি শব্দে ভালোবাসা ঢেলে দিচ্ছে।
শেষে যখন গানের সুর থামল, পুরো অডিটোরিয়াম দাঁড়িয়ে করতালি দিল।

রূপার চোখে জল এসে গেল।
সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে ছিল আরিন—চোখে গর্ব, ঠোঁটে হাসি।

রূপা দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরল তাকে।
— “তুমি ছিলে বলেই আমি জিতেছি।”

মঞ্চের আলো

একদিন বড় এক সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিল রূপা।
সবাই বলেছিল, “এই মেয়ে কিছু করবে না।”
কিন্তু রূপা জানত, এই মঞ্চেই হয়তো জীবনের নতুন শুরু লুকিয়ে আছে।

গান শুরু হলো—

“তোমার চোখে আমি হারিয়ে যাই…”

তার কণ্ঠে এমন গভীরতা ছিল, যেন প্রতিটি শব্দে ভালোবাসা ঢেলে দিচ্ছে।
শেষে যখন গানের সুর থামল, পুরো অডিটোরিয়াম দাঁড়িয়ে করতালি দিল।

রূপার চোখে জল এসে গেল।
সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে ছিল আরিন—চোখে গর্ব, ঠোঁটে হাসি।

রূপা দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরল তাকে।
— “তুমি ছিলে বলেই আমি জিতেছি।”

সুখের সমাপ্তি

বছর দুয়েক পর তাদের বিয়ে হলো।
রূপা সেদিনও কালো শাড়ি পরেছিল—ঠিক যেমন প্রথম দিন কফিশপে দেখা হয়েছিল।
হাতে মেহেদি, ঠোঁটে হাসি, চোখে ভালোবাসা।

আরিন বলল,
— “তোমাকে প্রথম দিন এভাবেই দেখেছিলাম। মনে হচ্ছিল, তুমি হয়তো আমার জীবনের গল্প লিখে ফেলবে।”

রূপা বলল,
— “আমি শুধু গল্প লিখিনি, তোমার সঙ্গে সেটা বেঁচে নিয়েছি।”

সেই রাতে বৃষ্টির শব্দে, জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রূপা মৃদু গলায় বলল,

“ভালোবাসা মানে কারও হাত ধরা নয়, বরং একসাথে সব ঝড় সামলানো।”

আরিন তার কাঁধে মাথা রাখল।
আকাশে তখন পূর্ণচাঁদ, বাতাসে হালকা সুর, আর তাদের চোখে একে অপরের প্রতিচ্ছবি।

🌺 শেষ কথা

রূপা ও আরিনের গল্পটা শুধু প্রেম নয়—
এটা বিশ্বাস, সাহস, এবং একে অপরের স্বপ্নে ভরসা রাখার গল্প।
ভালোবাসা মানে কেবল বলা নয়, বরং একে অপরের নীরবতাকেও বোঝা।

আর যখন ভালোবাসা সত্যি হয়—
তখন সেটাই হয়ে ওঠে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সুর। ❤️

<><><>সমাপ্ত <><><>


 

No comments:

Post a Comment

Powered by Blogger.

Search This Blog

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's.

Facebook