নাহিদা পাশের গ্রামের মেয়ে। কলেজের প্রথম দিনেই রায়হানের সঙ্গে তার পরিচয়। প্রথম দেখায় খুব একটা কিছু হয়নি, কিন্তু আস্তে আস্তে একে অপরের সাথে কথা বলা, পড়াশোনার বিষয় নিয়ে আলোচনা, তারপর হাসি–ঠাট্টা—সব মিলিয়ে দুজনের মধ্যে গড়ে উঠেছিল এক সুন্দর সম্পর্ক।
রায়হান নাহিদার হাসি খুব পছন্দ করে। তার মুখে যখন হালকা হাসি খেলে যায়, তখন মনে হয় পুরো পৃথিবীর সব আলো একসাথে মিলেমিশে ওই চোখের মধ্যে এসে বসেছে। আর নাহিদা? সেও বুঝতে পেরেছিল, রায়হান শুধু বন্ধু নয়—তার হৃদয়ের একান্ত জায়গায় সে অন্য রকম মানুষ হয়ে উঠছে।
কিন্তু এই সম্পর্ক ছিলো একেবারে প্রকাশহীন। দুজনেই শুধু বোঝে, কারো কাছে বলার সাহস পায় না। গ্রামের পরিবেশ, সমাজের বাঁধা, পরিবারের প্রত্যাশা—সবকিছু মিলে তাদের ভালোবাসা যেন লুকোনো কোনো ধন, যা শুধু হৃদয়ে জমে আছে।
💓সাজের আলোয় প্রথম প্রকাশ
একদিন বিকেলে কলেজ থেকে ফেরার পথে হঠাৎ আকাশ মেঘে ঢেকে গেল। ঝড় আসবে বুঝে রায়হান নাহিদাকে বলল—
“চলো, আজ ওই মাঠের পাশ দিয়ে না গিয়ে এখানে বটগাছের তলায় দাঁড়াই।”
ঝড়ের আগে হাওয়া বয়ে যাচ্ছিল প্রবল বেগে। নাহিদার ওড়না বারবার উড়ে যাচ্ছিল। রায়হান কিছুটা লজ্জা নিয়েই ওড়নাটা ঠিক করে দিল। মুহূর্তেই নাহিদার চোখে চোখ পড়ল তার। বাতাসের শব্দে চারপাশ ভরে গেছে, অথচ ওই কয়েক সেকেন্ডে তারা দুজন যেন অন্য এক জগতে।
নাহিদা মৃদু স্বরে বলল—
“রায়হান… তুমি কখনো এমন মনে করো না যে… আমরা একই আলোতে দাঁড়িয়ে আছি, অথচ কেউ জানে না?”
রায়হান একটু থেমে বলল—
“হ্যাঁ, মনে হয়। মনে হয় এই সাজের আলো শুধু আমাদের জন্যই জ্বলে ওঠে।”
ওই দিনটিই ছিল তাদের ভালোবাসার প্রথম স্বীকারোক্তি। কেউ কিছু সরাসরি বলেনি, কিন্তু চোখের ভাষায় সব বলে দিয়েছিল।
😂পরিবারের বাঁধা
সময় গড়িয়ে যাচ্ছিল। কলেজের শেষ বর্ষে এসে দুজনের সম্পর্ক আরও গভীর হলো। কিন্তু হঠাৎ করেই নাহিদার পরিবার থেকে বিয়ের কথা উঠল। নাহিদার বাবা চান, মেয়ের বিয়ে হবে শহরে এক ব্যবসায়ীর ছেলের সঙ্গে। নাহিদা অনেক বুঝিয়েছিল, কিন্তু তার বাবা কথায় রাজি হননি।
নাহিদা রাতে কেঁদে কেঁদে ফোন করেছিল রায়হানকে।
“আমি কি কিছুই করতে পারব না রায়হান? আমার ইচ্ছার কোনো দাম নেই?”
রায়হানও ভেঙে পড়েছিল। তবু শান্ত স্বরে বলল—
“আলো অন্ধকারকে যেভাবে জয় করে, আমাদের ভালোবাসাও একদিন জয়ী হবে নাহিদা। তুমি কেবল সাহস হারিও না।”
😂বিদায়ের মুহূর্ত
কিছুদিন পরেই নাহিদার বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে গেল। খবর শুনে রায়হান যেন ভেঙে পড়ল। সে নাহিদার সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করতে চাইল।
সেদিনও ছিল সাজের সময়। সূর্য অস্ত যাচ্ছিল, আকাশ লালচে রঙে ভরে উঠেছিল। নাহিদা আসলো মাঠের ধারে, যেখানে তারা প্রায়ই দেখা করত। চোখে জল, গলায় কান্নার সুর—
“রায়হান, হয়তো আজই শেষ দেখা…”
রায়হান কাঁপা কণ্ঠে বলল—
“না, এটা শেষ নয়। সাজের আলো নিভে যায় ঠিকই, কিন্তু আবার তো জ্বলে ওঠে। তেমনি আমাদের ভালোবাসাও আবার ফিরে আসবে।”
নাহিদা কিছু বলল না। শুধু চোখের জল গড়িয়ে পড়ল।
💦নতুন সূচনা
নাহিদার বিয়ের দিন হঠাৎ করে বড় বিপত্তি ঘটল। যে ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে হচ্ছিল, সে মিথ্যা কথা বলে পরিবারকে রাজি করেছিল। তার আসল চরিত্র প্রকাশ হয়ে গেল বিয়ের আগ মুহূর্তে। ফলে বিয়ে ভেঙে গেল।
এ ঘটনা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল। নাহিদার বাবা প্রথমে খুব কষ্ট পেলেও ধীরে ধীরে সত্য বুঝতে পারলেন। আর তখনই রায়হানের কথা মনে পড়ল তার।
কিছুদিন পর নাহিদার বাবা নিজেই রায়হানের বাড়িতে গেলেন। আলো–ঝলমলে এক সাজের সন্ধ্যায় অবশেষে দুই পরিবার মিলল। সেই রাতেই রায়হান–নাহিদার বাগদান ঠিক হলো।
💋সাজের আলোয় মিলন
বিয়ের পর এক সন্ধ্যায় রায়হান নাহিদাকে নিয়ে গেল সেই মাঠের ধারে, যেখানে তাদের প্রথম প্রেমের প্রকাশ হয়েছিল। চারপাশে গোধূলির আলো, হালকা বাতাস বয়ে যাচ্ছে।
রায়হান নাহিদার হাত ধরে বলল—
“দেখো, আজকের সাজের আলোও কেমন ঝলমলে। মনে হয় যেন আমাদের ভালোবাসার সাক্ষী।”
নাহিদা মৃদু হাসল, চোখে জল এসে গেল আনন্দে।
“হ্যাঁ রায়হান, এ আলো শুধু আমাদের জন্যই জ্বলে।”
তাদের দুজনের ভালোবাসা অবশেষে পূর্ণতা পেল সাজের আলোয়।
উপসংহার
ভালোবাসা কখনোই হারিয়ে যায় না, যদি সেটি সত্যি হয়। সমাজ যত বাঁধাই দিক না কেন, মনের টান শেষ পর্যন্ত একত্রিত করে দেয় দুজনকে। রায়হান আর নাহিদার গল্প সেই কথাই প্রমাণ করে—💓💓সত্যিকারের প্রেম ঠিকই নিজের আলো খুঁজে নেয়, যেমন সাজের আলো অন্ধকার ভেদ করে চারপাশকে আলোকিত করে।💖💖
<><><>সমাপ্ত<><><>

No comments:
Post a Comment